বাংলাদেশের টাকার ইতিহাস কী?



বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসে “টাকা” একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। টাকা শুধু লেনদেনের মাধ্যম নয়, এটি দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত। চলুন সংক্ষেপে টাকার ইতিহাস জেনে নেওয়া যাক।

প্রাচীনকাল

বাংলার প্রাচীন রাজ্যগুলোতে লেনদেনের জন্য প্রধানত ধাতব মুদ্রা ব্যবহার করা হতো। মগধ, গুপ্ত, পাল ও সেন যুগে বিভিন্ন ধাতব মুদ্রা প্রচলিত ছিল। সেই সময় মুদ্রা মানেই ছিল রূপা বা তামার তৈরি কয়েন।

সুলতানি ও মোগল আমল

বাংলার সুলতানরা স্বর্ণ, রৌপ্য ও তামার মুদ্রা চালু করেন। মুদ্রায় সাধারণত শাসকের নাম ও ইসলামিক কালিমা খোদাই করা থাকত। মোগল আমলেও একই ধারা বজায় থাকে, তবে ঢাকার মুদ্রা তখন বিশেষভাবে পরিচিতি লাভ করে।

ব্রিটিশ আমল

১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধের পর থেকে বাংলার অর্থব্যবস্থায় ইংরেজদের দখল বাড়তে থাকে। ১৮৬২ সালে প্রথমবারের মতো ব্রিটিশ ভারত সরকার কাগুজে নোট চালু করে। এর আগেও কাগুজে নোট সীমিত আকারে প্রচলিত ছিল, তবে তখন থেকে এটি সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য হয়।

পাকিস্তান আমল (১৯৪৭-১৯৭১)

১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর পূর্ববাংলা পাকিস্তানের অংশ হয়। তখন পাকিস্তানি রুপি এখানে চলত। নোট ও কয়েনে “Government of Pakistan” লেখা থাকত।

স্বাধীন বাংলাদেশের টাকা

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭২ সালের ৪ মার্চ বাংলাদেশ প্রথম নিজস্ব মুদ্রা “বাংলাদেশি টাকা” চালু করে। প্রথম টাকাগুলোতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক ব্যবহার করা হয়।

বর্তমানের টাকা

বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের বৈধ মুদ্রা ইস্যু করে। আমাদের টাকার বিভিন্ন মূল্যমান রয়েছে – কয়েন, কাগুজে নোট এবং প্লাস্টিকের নোটও চালু হয়েছে। নোটগুলোতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থাপনা, সংস্কৃতি, মুক্তিযুদ্ধ ও জাতীয় প্রতীক তুলে ধরা হয়েছে।

উপসংহার

বাংলাদেশের টাকার ইতিহাস আসলে দেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের প্রতিচ্ছবি। প্রাচীন ধাতব মুদ্রা থেকে শুরু করে আধুনিক কাগুজে ও প্লাস্টিক নোট – প্রতিটি ধাপ আমাদের স্বাধীনতা, সংগ্রাম ও অগ্রগতির সাক্ষ্য বহন করছে।

Comments

Popular posts from this blog

কেন বাংলাদেশি টাকা ডলারের তুলনায় দুর্বল?